নতুন বাড়ির ডিজাইন
নতুন বাড়ির ডিজাইন করার আগে অনেক কিসু আপনাকে জানতে হবে। কাজ ভুল হয়ে গেলে অনেক অসুবিধা তাই নতুন বাড়ির ডিজাইন করার আগে জেনে নেন কিছু তত্থ.....
নতুন বাড়ির ডিজাইন
নতুন বাড়ির ডিজাইন করার আগে অনেক বিষয় জানা দরকার; ডিজাইনের পরে জেনে কোনো লাভ নেই। ভুল হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া ভালো, ভুল হয়ে গেলে অসুবিধা। অল্প জায়গায় বাড়ির নকশা
সবার জীবনে একটি স্বপ্ন থাকে — সুন্দর একটি বাড়ি হবে, একটি গাড়ি হবে। অনেকে চান, সারা জীবন তো কষ্ট করলাম, শেষ বয়সে সুন্দর একটি বাড়ি করে যেন বাকি জীবনটা কাটাতে পারি।
নতুন বাড়ির ডিজাইন করার আগে আপনাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেয়ার করতে চাই।
প্রথমে জানার বিষয়: প্ল্যান কী? কেন করবেন?
সরকার চাইছে, গ্রামে যেসব নির্মাণকাজ হবে, সেগুলোর প্ল্যান যেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাস করিয়ে নেওয়া হয়। প্ল্যান পাসের পর পাস করা প্ল্যান অনুযায়ীই কাজ শুরু করা উচিত। তাই পাস করানোর আগেই নিজের মনের মতো করে বাড়ির প্ল্যান করে নিন।
বাড়ির চারপাশে যেভাবে জমি ছেড়ে প্ল্যান করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই কাজ করবেন। অনেকে জমি ছাড়তে চান না — এটি ঠিক নয়, পরে আপনারই সমস্যা হবে। যেমন আলো-বাতাস ঠিকমতো আসবে না, আর আলো-বাতাস না এলে অসুবিধার শেষ নেই।
রাস্তার পাশে বাড়ি করলে অবশ্যই জমি ছেড়ে করবেন। রাস্তার পাশে আরও বেশি জমি ছাড়তে হয়, কারণ:
যখন গাড়ি যায় তখন মাটি কাঁপে
যখন গাড়ি যায় তখন ধোঁয়া ওঠে
ধুলাবালি ওড়ে, ফলে ঘর খুব দ্রুত ময়লা হয়, কাপড়চোপড় ও আসবাবপত্র নষ্ট হয় এবং গাড়ির ধোঁয়া-গ্যাসও ঘরে ঢোকে।
কেমন ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্টকে দিয়ে ডিজাইন করাবেন
আর্কিটেক্ট:
প্ল্যান করার জন্য আর্কিটেক্টের সেবা নেওয়া উচিত, এবং আর্কিটেক্টকে অবশ্যই IAB-এর সদস্য হতে হবে। আর্কিটেক্টের সেবা নেওয়ার আগে একটি কথা বলি: অনেকে ভাবেন কোনোমতে একটা বাড়ি করে ফেলি, পরে মনে হয় যদি আরেকটু সুন্দর হতো! কিন্তু কংক্রিট একবার শক্ত হয়ে গেলে তা আর পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। তাই ভালো আর্কিটেক্টকে দিয়ে রুমের বিন্যাস ও সামনের দৃশ্যের ডিজাইন করে নেবেন। নতুন বাড়ির ডিজাইনের আগে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।
দরজা-জানালার মাপগুলো বুঝে নেবেন, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে কি না দেখে নেবেন। রুমে সবসময় 24 ঘণ্টা লাইট-ফ্যান চালু রাখা সম্ভব নয় — এতে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেশি আসবে, আর প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের স্বস্তিও পাবেন না। আর্কিটেক্টকে অবশ্যই ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী হতে হবে, এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসারে তাঁকে অবশ্যই ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশের সদস্য হতে হবে।
আমাদের করা কিছু কাজ
ডুপ্লেক্স বাড়ির নকশা
ডুপ্লেক্স বাড়ির নকশা
দুই-রুমের-সুন্দর-বাড়ি-রং-পরিবর্তন
দুই-রুমের-সুন্দর-বাড়ি-রং-পরিবর্তন
অল্প-জায়গায়-বাড়ির-নকশা
অল্প-জায়গায়-বাড়ির-নকশা
beautiful-home-design
beautiful-home-design
duplex-home-plan-new
duplex-home-plan-new
3d home design
3d home design
দুই-রুমের-বাড়ির-নকশা
দুই-রুমের-বাড়ির-নকশা
তিন-রুমের-বাড়ির-নকশা-3-units
তিন-রুমের-বাড়ির-নকশা-3-units
সয়েল টেস্ট বা মাটি পরীক্ষা
কয়টি সয়েল টেস্ট করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে, তা ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলে বুঝে নেবেন। অনেক সময় যেখানে তিনটি বোরিংয়েই কাজ হতো, সেখানে অতিরিক্ত বোরিং লাগতে পারে। সয়েল টেস্টের সময় মাটির লেয়ারগুলো উঁচু-নিচু কি না, সব লেয়ার একই লেভেলে আছে কি না — এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ; না থাকলে বাড়তি বোরিং লাগতে পারে। ছোট প্রজেক্টে ন্যূনতম 3টি এবং মাঝারি আকারের প্রজেক্টে পাঁচটি বোরিং করবেন।
সাইটে মাটির লেভেল উঁচু-নিচু থাকলে মাটির নিচের অবস্থা দেখতে অতিরিক্ত বোরিং লাগতে পারে; এ বিষয়ে অবশ্যই কনসালট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নেবেন। আপনার প্রজেক্টের পাশে কী ধরনের স্থাপনা আছে এবং সেগুলোর ফাউন্ডেশন কী ধরনের, তা সয়েল টেস্ট রিপোর্টে থাকতে হবে। সাইটের সঠিক অবস্থান, জমি কোথায় কতটুকু উঁচু-নিচু এবং বোরিংয়ের পর পানির লেভেল কোথায় — এসবের বিস্তারিত বিবরণ থাকতে হবে। সয়েল টেস্ট করা থাকলে স্ট্রাকচার ডিজাইন সঠিকভাবে ও সহজে করা যায়, এবং বিল্ডিংয়ে কোন ধরনের স্ট্রাকচারাল ডিটেইলিং লাগবে, তা বোঝা যায়। তাই সয়েল টেস্টকে গুরুত্ব দেবেন।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ার
দেখতে সুন্দর বাড়ি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসারে কংক্রিট ফ্রেম ডিজাইন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কংক্রিটকে 100 বছরের বেশি টিকিয়ে রাখা। ভালো মানের ডিজাইন ও ডিটেইলিং থাকলে কাজ করতে সুবিধা হয়, আর ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ হলে তা আপনার জন্য বড় প্রাপ্তি — তাই সবসময় ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবেন। আমাদের দেশে একটি সমস্যা হলো আশপাশের লোকজন পরামর্শ দেন; যে যা বোঝেন, তা-ই বলেন। এসব শুনলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। কেউ পরামর্শ দিলে বলবেন, আগে একটি প্ল্যান করে দেখান।
ফাউন্ডেশন, কলাম, গ্রেড বিম ও বিমে কখনো কোনো কিছু কম দেবেন না; বরং এই কাজগুলো সর্বোচ্চ বিবেচনা দিয়ে সঠিকভাবে করার চেষ্টা করুন। দেখতে সুন্দর বাড়ি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসারে কংক্রিট ফ্রেম ডিজাইন করাও গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কংক্রিটকে 100 বছরের বেশি টিকিয়ে রাখা। ভালো মানের ডিজাইন ও ডিটেইলিং থাকলে কাজ করতে সুবিধা হয়, আর ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ হলে তা আপনার জন্য বড় প্রাপ্তি — তাই সবসময় ড্রয়িং অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবেন। আমাদের দেশে একটি সমস্যা হলো আশপাশের লোকজন পরামর্শ দেন; যে যা বোঝেন, তা-ই বলেন। এসব শুনলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। কেউ পরামর্শ দিলে বলবেন, আগে একটি প্ল্যান করে দেখান।
ফাউন্ডেশন, কলাম, গ্রেড বিম ও বিমে কখনো কোনো কিছু কম দেবেন না; বরং এই কাজগুলো সর্বোচ্চ বিবেচনা দিয়ে সঠিকভাবে করার চেষ্টা করুন।
নির্মাণকাজে কেমিক্যাল প্রয়োগ
কোথায় কোন কেমিক্যাল দিলে ভালো হবে — বিশেষ করে ফুটিং, কলাম ও বিমে — তা ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করে নেবেন এবং সে অনুযায়ী কাজ করবেন। ভালো মানের কেমিক্যাল প্রয়োগ করলে তার সুফল আপনি পাবেন।
ভবনকে 100 বছরের বেশি টিকিয়ে রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- একটি ভবনকে 100 বছরের বেশি টিকিয়ে রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
- রডে জং ধরার আগেই ঢালাইয়ের কাজ শেষ করুন।
- বাইরের দিকে লিন্টেল যথাসম্ভব কম দেবেন, সম্ভব হলে দেবেন না; দিলে পাথর ব্যবহার করবেন।
- ডিজাইনার যদি কলামগুলো বিল্ডিংয়ের বাইরের পাশে দেন, তাহলে সেগুলো বৃষ্টিতে ভিজতে পারে; তাই সেখানে পাথরের খোয়া ব্যবহার করবেন।
- কলামের রড বাঁধা বা ওয়েল্ডিং করে দেবেন। সম্ভব হলে দুই ফুটের মধ্যে কলাম বা বিমের রডের জোড়া দেবেন না।
- ডিজাইন অনুসারে কলাম ও বিমের টাইগুলো সঠিকভাবে বাঁধুন।
- ঢালাইয়ে পানি 20 লিটারের কম দেওয়ার চেষ্টা করুন।
- ছাদের ওপরে কোনো আরসিসি কাজ করলে অবশ্যই পাথর দিয়ে করবেন।
- ছাদ ঢালাইও পাথর দিয়ে করবেন।
- এবং দ্রুত ওয়াটারপ্রুফিং করে ফেলুন।
মোটকথা, যে কংক্রিটের ভেতরে রড আছে, তা যেন না ভেজে। পানিতে ভিজলে রডে জং ধরতে পারে। রডকে জং থেকে রক্ষা করতে পারলে আপনার বিল্ডিংয়ের আয়ুষ্কাল অনেক বেড়ে যাবে।
আর বিল্ডিংয়ের রডে দ্রুত জং ধরলে বিল্ডিং বেশিদিন টিকবে না। নতুন বাড়িকে দীর্ঘদিন নতুনের মতো রাখতে অবশ্যই কংক্রিটকে বেশি শক্তিশালী করবেন।
নতুন বাড়ি করার আগে কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন।
পাথরের পানি শোষণক্ষমতা এক শতাংশেরও কম, অথচ ইটের পানি শোষণক্ষমতা 15%-এর বেশি। ইদানীং প্রচুর বৃষ্টি হয়; ইটের খোয়া দিয়ে ভবন করলে খোয়া একবার ভিজে গেলে শুকাতে অনেক সময় লাগে। এ সময় রডের গায়ে পানি লাগলে রডে জং ধরে যাবে, আর রডে মরিচা ধরলে আপনার বিল্ডিংয়ের আয়ু কমে যাবে। মনে রাখবেন, রডে মরিচা ধরতে না দিলেই আপনি সফল। রডে মরিচা ধরা মানে এত কষ্টের, এত টাকার, এত পরিশ্রমের বাড়ির ক্ষতি। দেখবেন, 20 বছর পরেই বাড়ির চেহারা বদলে গেছে।
আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন: ভবনে যখনই টুকটাক কোনো সমস্যা দেখা দেবে, দেখামাত্রই ঠিক করে ফেলবেন — রোগ অল্প থাকতেই সারিয়ে নিন। এত টাকার বাড়ি অবহেলা করলে বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। ব্রিটিশদের করা বিল্ডিং 200 বছর পরেও টিকে আছে, অথচ আমাদের করা বাড়ি টেকে না। আপনার পাশের বাড়ির খবর নিয়ে দেখুন, কথাটি সঠিক কি না।
স্ট্রাকচারের কাজে পাথর ব্যবহার করলে ভালো হয়, অন্তত যে অংশ বৃষ্টিতে ভেজার সম্ভাবনা আছে সেখানে। কলাম, বিম বা কংক্রিটে কখনো কাটছাঁট করবেন না। মনে রাখবেন, স্ট্রাকচারে বেশি খরচ হয় না; বেশি খরচ হয় টাইলসের মতো ফিনিশিং কাজে।
নতুন বাড়ি করার আগে কিছু বিষয় জানা প্রয়োজন।
সুন্দর ফ্লোর প্ল্যান
আপনার জায়গা অনুযায়ী সঠিক বিন্যাস করে সুন্দর একটি ফ্লোর প্ল্যান করা যায়।
রুমের বিন্যাস এমনভাবে করা হয়, যাতে বাইরে থেকে দেখতেও সুন্দর লাগে।
সেটব্যাক
পাশে জায়গা ছেড়ে কাজ করবেন। অনেকেই জায়গা ছাড়তে চান না, পরে দেখা যায় পাশে বাড়ি উঠলে জানালা খোলা যায় না, ফাউন্ডেশন করতেও অসুবিধা হয় — এমন আরও নানা সমস্যা দেখা দেয়।
24/7 Support
যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করব।
ডিজাইন অনুযায়ী কাজ
ডিজাইনের পর ডিজাইন অনুযায়ীই কাজ করবেন; কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে সরাসরি ইঞ্জিনিয়ারকে জিজ্ঞেস করবেন, প্রতিবেশীর পরামর্শে কাজ বদলাবেন না।
ভালো কংক্রিট
একটি বিষয় মনে রাখবেন: ভালো মানের রড কিনতে পাওয়া যায়, কিন্তু ভালো মানের কংক্রিট বাজারে কেনা যায় না। তাই কংক্রিট যেন সঠিকভাবে মেশানো হয়, সেদিকে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখবেন।
আপনি নিশ্চিন্ত
আপনার ফাউন্ডেশন, কলাম ও বিম ঠিকমতো করা হলে আপনি নিশ্চিন্ত। সঠিক সিমেন্ট, ভালো বালি, ভালো খোয়া, পরিষ্কার পানি ও প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল দিয়ে কংক্রিট মেশাবেন।
বাড়ির ডিজাইনের জন্য যোগাযোগ করুন। আমাদের বাড়ির নকশার ভিডিও দেখুন।
যোগাযোগ
আপনার জমির জন্য সঠিক ডিজাইন নিয়ে কথা বলুন
জমির মাপ ও প্রয়োজন জানালে আমরা উপযুক্ত প্ল্যান ও খরচের ধারণা দিতে পারব।