বাড়ি বানানোর নিয়ম কী? পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ পর্যন্ত

বাড়ি বানানোর নিয়ম সম্পর্কে জানুন। জমির তথ্য, নকশা, প্রযোজ্য অনুমোদন, ব্যয়ের হিসাব ও নির্মাণের প্রস্তুতি মিলিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যান।

আপনার প্রজেক্ট, এক জায়গায়

আপনার ভবন তৈরির খরচ কত হতে পারে?

তলার সংখ্যা, ছাদের আয়তন, মিস্ত্রির ধরন ও ভূমিকম্প অঞ্চল অনুযায়ী প্রাথমিক বাজেট দেখুন। লগইন করে ফ্রি হিসাব ব্যবহার করুন অথবা আপনার প্রকল্পের জন্য সেবার অনুরোধ পাঠান।

অ্যাকাউন্ট খোলা ও প্রাথমিক খরচের হিসাব বিনামূল্যে। নকশা ও অন্যান্য সেবার ফি লিখিত কোটেশন অনুযায়ী।

বাড়ি বানানোর নিয়ম কী? bari bananor niyom ki? বাড়ি তৈরির নিয়ম কী?


বাড়ির ডিজাইনের জন্য যোগাযোগ করুন।

Modern duplex house plans in Bangladesh

বাড়ি বানানোর নিয়ম bari bananor niyom, বাড়ি তৈরির নিয়ম জেনেই বাড়ি করতে হবে। একবার ভুল হয়ে গেলে তা পরিবারসহ সমাজের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাড়ি বানানোর নিয়ম এর জন্য আমাদের দেশে “বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড” আছে।

Modern duplex house plans, 3D view, with cost estimate, Click Here

গৃহ / বাড়ি নির্মাণ খরচ কত হতে পারে এ বিষয়ে বিস্তারিত: বাড়ি তৈরির ধাপসমূহ, প্রতি বর্গফুট খরচ, Cost Estimate কত হয়?

স্ট্রাকচার ডিজাইন করতে কেমন ইঞ্জিনিয়ার দরকার?

স্ট্রাকচার ডিজাইন একটি ভবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রাকচার ডিজাইনে ভুল থাকলে কলাম ডিজাইন ভুল বিম ডিজাইন ভুল, শিয়ার ওয়ালের অবস্থানও ডিজাইন ভুল। কোড ও প্রকৌশলগত হিসাবের সঙ্গে না মিললে ডিজাইনটি গ্রহণযোগ্য নয়। 

প্রকল্পের নকশা প্রস্তুতকারীর পেশাগত যোগ্যতা, প্রযোজ্য নিবন্ধন এবং কাজের পরিধি যাচাই করুন। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী যদি ভুল ডিজাইন করেন, তাহলে পেশাগত জবাবদিহির জন্য প্রযোজ্য প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকতে পারে।

সদস্যতা বা নিবন্ধন কোনো ডিজাইনের নির্ভুলতার নিশ্চয়তা নয়; সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর যোগ্যতা ও প্রকল্প-অভিজ্ঞতাও যাচাই করুন। 

স্ট্রাকচারাল ডিজাইনের ড্রয়িংয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর নাম ও স্বাক্ষর থাকে না। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যোগ্য ও অনুমোদিত প্রকৌশলীর নাম, স্বাক্ষর ও নিবন্ধন বা সদস্য নম্বরসহ ড্রয়িং সংরক্ষণ করুন। স্বাক্ষরের নমুনা কপি ও সংরক্ষণ করুন, 

যাতে পরে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। 

কে কোন ধরনের নকশা প্রস্তুত বা স্বাক্ষর করতে পারবেন, তা প্রকল্পের অবস্থান, ধরন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং কার্যকর বিধিমালার ওপর নির্ভর করে। প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও কর্তৃপক্ষের বর্তমান যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী অনুমোদিত পেশাজীবীর মাধ্যমে ডিজাইন প্রস্তুত ও স্বাক্ষর করাতে হবে। চূড়ান্ত দাখিলের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান শর্ত যাচাই করুন। 

প্রকল্পের জন্য প্রযোজ্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা আছে এমন পেশাজীবীর মাধ্যমে ডিজাইন করান এবং তাঁর স্বাক্ষর করা  ড্রয়িং সংরক্ষণ করে রাখুন। আর্কিটেক্ট, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও প্লাম্বিং ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষরও নিয়ে রাখুন।


বাড়ি বানানোর নিয়ম, বাড়ি তৈরির নিয়ম
বাড়ি বানানোর নিয়ম

বাড়ির প্ল্যান প্রকল্পের অবস্থান ও ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করুন। রাজউকের আওতায় হলে রাজউক থেকে আর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হলে সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন নিন।। 

প্রযোজ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী বাড়ি নির্মাণের আগে যোগ্য স্থপতির মাধ্যমে বাড়ির নকশা ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা বা তালিকাভুক্তি আছে এমন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে ভবনের স্ট্রাকচার ডিজাইন করান এবং প্রকল্পের অবস্থান অনুযায়ী রাজউক, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্ল্যান অনুসারে নির্মাণ করুন। 

নির্মাণকাজে প্রকল্পের জটিলতা ও কর্তৃপক্ষের শর্ত অনুযায়ী যোগ্য প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করুন। 

একবার ভুল হয়ে গেলে পরে আবার করা অনেক ঝামেলার। তাই ভুল হওয়ার আগেই সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। 

একতলা বাড়িসহ সব প্রকল্পে নকশা প্রস্তুতকারী পেশাজীবীর যোগ্যতা ও অনুমোদনের পরিধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করতে হবে। 

পৌরসভা এলাকায় বাড়ি তৈরির নিয়ম

ও জায়গা ছাড়ার নিয়ম

বাংলাদেশে পৌরসভার বিল্ডিং রুল কী?

পৌরসভায় বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম নির্ভর করে জমির পরিমাণ ও সামনের রাস্তার ওপর। 

জমি যদি 

১৩৪ বর্গমিটার হয়, তাহলে পেছনে ১ মি. আর দুই পাশে
০.৮মি

১৩৪ বর্গমিটারের বেশি হলে পেছনে ১ মি. আর দুই পাশে ১ মি.

২০০ বর্গমিটারের বেশি হলে পেছনে ১.৫ মি. আর দুই পাশে ১ মি.

২৬৮ বর্গমিটারের বেশি হলে পেছনে ২ মি. আর দুই পাশে ১.২৫ মি.

বাংলাদেশে পৌরসভার বিল্ডিং রুল: রাস্তা হতে হবে ন্যূনতম ১২ ফুট; সামনে ন্যূনতম ৫ ফুট জমি ছাড়তে হবে।  বিল্ডিংয়ের উচ্চতা হবে = (রাস্তার প্ৰস্থ + রাস্তা থেকে বিল্ডিংয়ের সামনের ফাঁকা জায়গা) X ২ , বাকি ৩ পাশে জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জমি ছাড়তে হবে। 

বিস্তারিত ভিডিওতে 

https://youtu.be/yWPsb2Wp2L0https://youtu.be/ND10zA8UJLo

বাড়ির সামনের জায়গা ছাড়ার নিয়ম

বাড়ির সামনের জায়গা ছাড়ার নিয়ম ভবনের উচ্চতা ও সামনের রাস্তার প্রস্থের ওপর নির্ভর করে। 

ভবনের উচ্চতা = ২x (রাস্তার প্রস্থ +রাস্তার কিনারা থেকে বাড়ি পর্যন্ত দূরত্ব)

পৌরসভা এলাকায় বাড়ি বানানোর নিয়ম

পৌরসভা এলাকায় বাড়ি তৈরির নিয়মের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

ভবনের উচ্চতা সামনের রাস্তার প্রস্থ এবং রাস্তা বা জমির কিনারা থেকে ভবন পর্যন্ত ফাঁকা জায়গার দূরত্বের যোগফলের ২ গুণের বেশি হবে না।

জমির মাপ অনুযায়ী ৩ পাশে জমি ছাড়তে হবে।

ভবন বা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গা রাখার নিয়ম জানতে আমাদের বাড়ির ডিজাইন নকশা পেজটি দেখুন।

পৌরসভার শ্রেণি অনুযায়ী কিছু পৌরসভায় শুধু আর্কিটেকচার অংশ দিলেই হয়। 

আবার কিছু পৌরসভায় আর্কিটেকচার ও স্ট্রাকচার — দুই অংশই দিতে হয়।


বাড়ির প্ল্যান পাশ, পৌরসভার মধ্যে বাড়ি বানানোর নিয়ম, পৌরসভা প্ল্যান
পৌরসভা এলাকায় বাড়ি তৈরির নিয়ম

রাজউকের আওতায় বাড়ি বানানোর নিয়ম কী?

রাজউকের আওতায় বাড়ি করার নিয়ম জানার আগে কিছু বিষয় জানা অতি জরুরি।

যেমন: সেটব্যাক রুল (Setback Rule), Maximum Ground Coverage (MGC), Floor Area Ratio (FAR)


৪ তলা বাড়ির ডিজাইন নকশা হিমাঙ্গন গোপালগঞ্জ 4th floor House Design
রাজউকের বাড়ি বানানোর নিয়ম

বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম

বাড়ি করার সময় জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জায়গা ছাড়তে হয়; ভবনের উচ্চতা বেশি হলে আরও বেশি জায়গা ছাড়তে হয়। ৪ থেকে ৫ কাঠা জমি হলে ন্যূনতম সামনে ১.৫ মি., দুই পাশে ১.২৫ মি. এবং পেছনে ২ মি. জমি ছাড়তে হয়। চারপাশে জমি ছেড়েই বাড়ি তৈরি করা নিয়ম। 

সেটব্যাক রুল (Setback Rule) কী?

ভবনের চারপাশে ন্যূনতম যে জায়গা ছেড়ে নির্মাণ করতে হয়, তাকে সেটব্যাক রুল (Setback Rule) বলে। চারপাশে জমি ছেড়ে বাড়ি করাই নিয়ম।

সেটব্যাক রুল নির্ভর করে জমির পরিমাণ ও রাস্তার ওপর। বাড়ি বানানোর নিয়মের মধ্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অথচ অধিকাংশ জমির মালিক তা মানতে চান না। 


সেটব্যাক রুল (Setback Rule) বাড়ি তৈরির নিয়ম, বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম
সেটব্যাক রুল (Setback Rule)

ভবনের সামনের দিক কোনটি? Building Orientation

রাস্তা যে পাশে, সেখান থেকে ভবনের যে দিকটি দেখা যায়, সেটিই ভবনের সামনের দিক (Building Orientation)।

২ পাশে রাস্তা থাকলে যে পাশ দিয়ে ঢোকার পথ করা হয়, সেটিই ভবনের সামনের দিক। 

রাস্তার দিকে মুখ করে বাড়ি বানানোর নিয়ম


ভবনের সামনের দিক কোনটি, বাড়ি তৈরির নিয়ম, বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম
ভবনের সামনের দিক কোনটি

সামনের দিকের বিপরীত পাশটি পেছনের দিক। 

আর ডান-বামের ২ দিক হলো পাশ ই। 

Maximum Ground Coverage (MGC) কী?

জমির সর্বোচ্চ কতটুকু জায়গা ভবন দিয়ে ঢাকা যাবে, সেটিই Maximum Ground Coverage (MGC)। 

এরও একটি নিয়ম আছে। 

জমি ছেড়ে বাড়ি করাই নিয়ম

Maximum Ground Coverage (MGC) কী কী বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

Maximum Ground Coverage (MGC) কী কী বিষয়ের ওপর নির্ভর করে জমির পরিমাণ, ভবনের ধরন ও রাস্তার প্রস্থের ওপর।। 

৩ কাঠার একটি জমিতে ভবনের ছাদ জমির ৬৫%-এর বেশি করা যাবে না। 

বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য এটি খুবই উপযোগী। 

বারান্দা বাড়ানোর নিয়ম 

বারান্দা বাড়ানোর নিয়ম: প্রতিটি ফ্লোরের ক্ষেত্রফলের ২.৫%-এর বেশি বাড়ানো যাবে না। 

আরেকটি নিয়ম: ভবনের সামনের প্রস্থের ৩০% পর্যন্ত লম্বা করা যাবে, আর গভীরতা হিসেবে ১ মি. ধরে গুণ করতে হবে। 

তবে এই বারান্দা কোনোভাবেই সেটব্যাকের জায়গায় যাবে না। 

রাজউকের আওতায় ভবন করতে FAR কী?

বাড়ি তৈরির নিয়মের মধ্যে FAR অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। FAR (floor area ratio) হলো জমির ক্ষেত্রফলের তুলনায় সব ফ্লোরের মোট ক্ষেত্রফলের অনুপাত। তবে কিছু জায়গা FAR-এর হিসাবে আসে না। FAR =(সকল মেঝের ক্ষেত্রফল)/জমির ক্ষেত্রফল 

FAR (floor area ratio)-এর সুবিধা:

১) পাশের ভবনের আগুন থেকে ক্ষতির ঝুঁকি কমে 

২) বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে যেতে পারে 

৩) পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসে। 

FAR (floor area ratio)-এর উদ্দেশ্য:

১) কতটুকু জমিতে নির্মাণ করা যাবে, তা নির্ধারণ করা 

২) নির্দিষ্ট এলাকার জমিকে নির্দিষ্ট জোনিংয়ে সীমাবদ্ধ রাখা 

৩) ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা 

মোটকথা, জমিকে আনুভূমিকভাবে না ছড়িয়ে উল্লম্বভাবে ব্যবহার করা।


সেটব্যাক রুল (Setback Rule) FAR (Floor Area Ratio), বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম
সেটব্যাক রুল (Setback Rule), FAR (Floor Area Ratio) ও বাড়ি তৈরির নিয়ম

সর্বোচ্চ কত তলা ভবন করা যাবে?

বাড়ি বানানোর নিয়মের মধ্যে ভবনের উচ্চতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোচ্চ কত তলা ভবন করা যাবে, তা নির্ভর করে FAR-এর ওপর।

FAR = সব ছাদের মোট ক্ষেত্রফল / জমির ক্ষেত্রফল

রাজউকের আওতায় ৩ থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম কী?

বাড়ি তৈরির নিয়ম: রাজউকের ৩ কাঠা থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম — জমি ৩ কাঠার বেশি ও ৪ কাঠার কম হলে সেটব্যাক হবে সামনে ১.৫ মি., পেছনে ১.৫ মি. এবং ২ পাশে ১ মি.। 

সামনের সেটব্যাকের ২টি নিয়ম আছে: একটি চার্টে দেওয়া মান, অন্যটি ৪.৫ মি.; এর মধ্যে যেটি বড়, সেটিই নিতে হবে। সেটব্যাকের জমিগুলো ছেড়ে দিতে হবে। 

জমির মাপ যদি ১২ মি. × ১৮ মি. হয়, তাহলে জমির ক্ষেত্রফল হবে ২১৬ বর্গমিটার। 

FAR হবে ৩.৫

MGC হবে ৬২.৫%

সামনে সেটব্যাক ১.৫ মি., পেছনে ১.৫ মি., ২ পাশে ১ মি.। 

তাহলে ছাদ হবে ১৫০ বর্গমিটার।

এখন ১৫০ বর্গমিটার ছাদ করলে MGC হয় (১৫০x ১০০)/২১৬=৬৯.৪৪%

যা অনুমোদিত সীমার বেশি, তাই 

ছাদ করতে হবে ২১৬x ৬২.৫%=১৩৫ বর্গমিটার। 

সামনের দিকে আরও ১.৫ মি. ছেড়ে দিলেই হবে, আর সেখানে বারান্দা করা যাবে। বাড়ি তৈরির নিয়ম মেনেই বাড়ি করা উচিত। 


রাজউকের আওতায় ৩ থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম, বাড়ি তৈরির নিয়ম
রাজউকের আওতায় ৩ থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম

FAR ৩.৫ = মোট ছাদের ক্ষেত্রফল / ২১৬

মোট ছাদের ক্ষেত্রফল=৭৫৬ বর্গমিটার

তলা = ৭৫৬/১৩৫= ৫.৬

৬ তলা করা যাবে। 

ভবনের উচ্চতা: ৬ তলা 

জায়গা ছেড়ে বাড়ি বা ভবন করলে সুবিধা কী?

জায়গা ছেড়ে ভবন করলে ভবনমালিকেরই সুবিধা বেশি, আর জমি না ছেড়ে করলে অসুবিধাই বেশি। যেমন: 

নিয়ম মেনে ৬৭.৫% জমি ব্যবহার করলে বাকি জায়গা আলো-বাতাস আসার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুরোটা ঢেকে দিলে আলো-বাতাস কিছুই আসবে না; ফলে আপনার স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে না, ঘরের আসবাবপত্রও নষ্ট হবে — এমনকি বাইরে থেকে এসে ঘামে ভেজা কাপড়ও শুকাবে না। 

প্রয়োজনীয় ফাঁকা জায়গা রাখলে পাশের ভবনের অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা হেলে পড়ার ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানো যায়; প্রকল্পের জন্য প্রযোজ্য সেটব্যাক ও স্ট্রাকচারাল ব্যবস্থা অনুসরণ করুন। 

এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপণের কাজেও ফাঁকা জায়গা কাজে লাগে। কোডে ন্যূনতম ফাঁকা জায়গা রাখার কথা বলা আছে, তাই তা অবশ্যই মানতে হবে। 

তা ছাড়া জমি ছেড়ে ভবন করলে বৃষ্টির পানি মাটির মাধ্যমে গভীর স্তরে যেতে পারে। ঢাকা শহরের যে অবস্থা, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

সবাই যদি চারপাশে জায়গা খালি না রেখে বাড়ি বানান, তাহলে ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাবে — বলা যায়, ঢাকা শহর একটি ফাঁপা জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে।

নিয়ম মেনে বাড়ি নির্মাণ করলে যেকোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পেতেও সুবিধা হয়। 

বাড়ি তৈরির আগে কী করে নিতে হয়?

বাড়ি তৈরির প্রথম ধাপ হলো জায়গা পরিষ্কার ও সমতল করা। ভবনের ওজন অনেক বেশি হয় তাই মজবুত ফাউন্ডেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাটি কাটার আগে লে-আউট ভালো করে যাচাই করে নিন। মালামাল রাখার ব্যবস্থা করুন। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে প্রজেক্টে শেড দিয়ে রাখুন। রডের দৈর্ঘ্য ও কংক্রিটের পরিমাণ যাচাই করুন, জয়েন্টগুলো ভালো করে পরীক্ষা করুন।

বিল্ডিংয়ের খরচ কীভাবে বের করতে হয়?

ধরা যাক, আপনি ১৫০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি করবেন এবং প্রতি বর্গফুটে নির্মাণ খরচ ২০০০ টাকা।  তাহলে আপনার ভবন করতে খরচ হবে ১৫০০ X ২০০০= ৩০০  ০০ ০০ টাকা। অপ্রত্যাশিত খরচ হতে পারে ১২ থেকে ১৫%, তাহলে আপনার নির্মাণ খরচ হতে পারে মোট  ৩৩ ৬০ ০০০ টাকা থেকে ৩৪ ৫০ ০০০ টাকা। (প্রতি ফ্লোর, ফাউন্ডেশনের খরচ বাদে)।

বাড়ি করতে কত ইট লাগে?

গাঁথুনিতে ১০ ইঞ্চি দেয়ালে প্রতি বর্গফুটে ১০টি এবং ৫ ইঞ্চি দেয়ালে প্রতি ১ বর্গফুটে ৫টি ইট লাগে। গাঁথুনির মর্টারের অনুপাত হবে ১ ব্যাগ সিমেন্টে ৪ ব্যাগ বালি; তবে বালু যেন মোটা হয়।

বাড়ির পরিকল্পনা কীভাবে করতে হয়?

প্রতিটি রুমের উদ্দেশ্য বিবেচনা করুন: রুমে কী কী থাকবে, রুমটি কীভাবে ব্যবহার করবেন। প্রতিটি আসবাবের মাপ মনে রাখুন এবং কোথায় কোন আসবাব বসবে, তা হিসাব করুন; তারপর রুমের মাপ ঠিক করুন — তখনই পরিকল্পনা সফল হবে। পাবলিক স্পেস ও প্রাইভেট স্পেস কতটুকু হবে এবং আলো-বাতাস কীভাবে প্রবাহিত হবে, তাও হিসাব করুন।

অনুমতি ছাড়া কত তলা নির্মাণ করা যায়?

একতলা ভবন বা বাউন্ডারি ওয়ালের ক্ষেত্রেও অনুমোদনের প্রয়োজন প্রকল্পের অবস্থান ও প্রযোজ্য বিধিমালার ওপর নির্ভর করে; কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বর্তমান শর্ত যাচাই করুন। 

পুকুর খননসহ ভূমি পরিবর্তনের কাজেও স্থানীয় অনুমোদন লাগতে পারে। অনুমোদন না থাকলে কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে।

বাংলাদেশে বাড়ি বানাতে কত টাকা লাগে?

২০২৪ সাল অনুযায়ী প্রতি বর্গফুটে ফাউন্ডেশন খরচ: ১ তলার জন্য ৭০০ টাকা, দুই তলার জন্য ৭৫০ টাকা, তিন তলার জন্য ৮৫০ টাকা, চার তলার জন্য এক হাজার টাকা, 5 তলার জন্য বারোশো টাকা এবং ৬ তলার জন্য ১৪০০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি বর্গফুটে ভবন নির্মাণে দুই হাজার থেকে ২৫০০ টাকার মতো লাগে।

বাড়ির ডিজাইনের জন্য যোগাযোগ করুন।  আমাদের বাড়ির নকশার ভিডিও দেখুন।

মসজিদের ডিজাইন দেখুন

https://youtu.be/LokYh2oP860https://youtu.be/IbpSnZBR8x8https://youtu.be/L19yi8T-09Ehttps://youtu.be/Dq9zggw8vDk

যোগাযোগ

আপনার জমির জন্য উপযুক্ত নকশা নিয়ে প্রাথমিক পরামর্শ নিন

জমির মাপ, ভবনের ব্যবহার ও পরিকল্পনা জানালে আমরা পরবর্তী উপযুক্ত ধাপটি বুঝতে সাহায্য করব।

আপনার প্রজেক্ট, এক জায়গায়

আপনার নির্মাণ পরিকল্পনার পরের ধাপটি নিন

নির্মাণের সিদ্ধান্ত হোক তথ্যভিত্তিক। আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রাথমিক বাজেট দেখুন, প্রকল্পের প্রয়োজন জানান এবং আমাদের প্রকৌশলসেবার অনুরোধ করুন।

  • ফাউন্ডেশন, প্রতিটি তলা ও মোট নির্মাণ খরচের প্রাথমিক ধারণা
  • ডিজাইন ও প্রকৌশলসেবার অনুরোধ এবং প্রকল্পের তথ্য জমা
  • একই ড্যাশবোর্ডে কাজের অগ্রগতি, কোটেশন ও পেমেন্টের তথ্য

অ্যাকাউন্ট খোলা ও প্রাথমিক খরচের হিসাব বিনামূল্যে। নকশা ও অন্যান্য সেবার ফি লিখিত কোটেশন অনুযায়ী।

ফোন করুনহোয়াটসঅ্যাপ