বাড়ি বানানোর নিয়ম কি ?

বাড়ি বানানোর নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করা উচিত। বাড়ি তৈরির নিয়ম জানা থাকলে শক্ত ও মজবুত ও সুন্দর বাড়ি তৈরির করা যায়।

বাড়ি বানানোর নিয়ম কী? bari bananor niyom ki? বাড়ি তৈরির নিয়ম কী?


বাড়ির ডিজাইনের জন্য যোগাযোগ করুন।

Modern duplex house plans in Bangladesh

বাড়ি বানানোর নিয়ম bari bananor niyom, বাড়ি তৈরির নিয়ম জেনেই বাড়ি করতে হবে। একবার ভুল হয়ে গেলে তা পরিবারসহ সমাজের বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাড়ি বানানোর নিয়ম এর জন্য আমাদের দেশে “বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড” আছে।

Modern duplex house plans, 3D view, with cost estimate, Click Here

গৃহ / বাড়ি নির্মাণ খরচ কত হতে পারে এ বিষয়ে বিস্তারিত: বাড়ি তৈরির ধাপসমূহ, প্রতি বর্গফুট খরচ, Cost Estimate কত হয়?

স্ট্রাকচার ডিজাইন করতে কেমন ইঞ্জিনিয়ার দরকার?

স্ট্রাকচার ডিজাইন একটি ভবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের অনেক স্ট্রাকচার ডিজাইনেই ভুল থাকে — কলাম ডিজাইন ভুল বিম ডিজাইন ভুল, শিয়ার ওয়ালের অবস্থানও ডিজাইন ভুল। অনেক ডিজাইনই মনগড়া, যা কোড ও বইয়ের সঙ্গে মেলে না। 

কারণ বেশির ভাগ ডিজাইন করানো হয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে; আবার কিছু ইঞ্জিনিয়ার আইইবির সদস্য নন। আই.ই.বি. সদস্য কোনো ইঞ্জিনিয়ার যদি ভুল ডিজাইন করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে দেওয়ার সুযোগ আছে।

তাই আই.ই.বি. সদস্য ইঞ্জিনিয়াররা ডিজাইনে অনেক বেশি দায়বদ্ধ থাকেন। 

অধিকাংশ স্ট্রাকচার ডিজাইনের ড্রয়িংয়ে ইঞ্জিনিয়ারের নাম ও স্বাক্ষর থাকে না। অবশ্যই আই.ই.বি. সদস্য ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে ডিজাইন করিয়ে তাঁর নাম, স্বাক্ষর ও আই.ই.বি. সদস্য নম্বরসহ ড্রয়িং সংরক্ষণ করুন। স্বাক্ষরের নমুনা কপি ও সংরক্ষণ করুন, 

যাতে ডিজাইনে ত্রুটি হলে দায় নির্ধারণ করে তাঁকে ধরতে পারেন। 

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা আই.ই.বি.-র সদস্য হতে পারেন না; তাঁদের করা ডিজাইনে ত্রুটি হলে আপনি কার্যত কিছুই করতে পারবেন না। কারণ বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কাঠামোগত ডিজাইন করার অনুমোদন নেই তারপরও যদি তাঁদের দিয়ে ডিজাইন করান, তাহলে দায় আপনার — দুঃখজনকভাবে অনেক ক্ষেত্রে এমনটাই হচ্ছে। 

তাই আই.ই.বি. সদস্য ও অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে দিয়ে ডিজাইন করান এবং তাঁর স্বাক্ষর করা  ড্রয়িং সংরক্ষণ করে রাখুন। আর্কিটেক্ট, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও প্লাম্বিং ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষরও নিয়ে রাখুন।


বাড়ি বানানোর নিয়ম, বাড়ি তৈরির নিয়ম
বাড়ি বানানোর নিয়ম

বাড়ির প্ল্যান অনুমোদন ছাড়া নির্মাণকাজ শুরু করা যায় না; যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কাজে হাত দিন। রাজউকের আওতায় হলে রাজউক থেকে আর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হলে সিটি কর্পোরেশন থেকে অনুমোদন নিন।। 

২০২০ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসারে বাড়ি বানানোর আগে সরকার অনুমোদিত স্থপতির মাধ্যমে বাড়ির নকশা ও তালিকাভুক্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা ভবনের স্ট্রাকচার ডিজাইন করাতে হবে এবং রাজউক, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে প্ল্যান পাস করিয়ে সেই প্ল্যান অনুযায়ী নির্মাণ করতে হবে। 

নির্মাণকাজের সময় একজন ইঞ্জিনিয়ারকে সার্বক্ষণিক তদারকির দায়িত্বে রাখতে হবে। 

একবার ভুল হয়ে গেলে পরে আবার করা অনেক ঝামেলার। তাই ভুল হওয়ার আগেই সঠিকভাবে কাজ করতে হবে। 

বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসারে একতলা বাড়ি বানানোর ক্ষেত্রেও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী দ্বারা নকশা ও স্ট্রাকচার ডিজাইন করার অনুমতি নেই।। 

পৌরসভা এলাকায় বাড়ি তৈরির নিয়ম

ও জায়গা ছাড়ার নিয়ম

বাংলাদেশে পৌরসভার বিল্ডিং রুল কী?

পৌরসভায় বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম নির্ভর করে জমির পরিমাণ ও সামনের রাস্তার ওপর। 

জমি যদি 

১৩৪ বর্গমিটার হয়, তাহলে পেছনে ১ মি. আর দুই পাশে
০.৮মি

 

১৩৪ বর্গমিটারের বেশি হলে পেছনে ১ মি. আর দুই পাশে ১ মি.

২০০ বর্গমিটারের বেশি হলে পেছনে ১.৫ মি. আর দুই পাশে ১ মি.

২৬৮ বর্গমিটারের বেশি হলে পেছনে ২ মি. আর দুই পাশে ১.২৫ মি.

বাংলাদেশে পৌরসভার বিল্ডিং রুল: রাস্তা হতে হবে ন্যূনতম ১২ ফুট; সামনে ন্যূনতম ৫ ফুট জমি ছাড়তে হবে।  বিল্ডিংয়ের উচ্চতা হবে = (রাস্তার প্ৰস্থ + রাস্তা থেকে বিল্ডিংয়ের সামনের ফাঁকা জায়গা) X ২ , বাকি ৩ পাশে জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জমি ছাড়তে হবে। 

বিস্তারিত ভিডিওতে 

https://youtu.be/yWPsb2Wp2L0https://youtu.be/ND10zA8UJLo

বাড়ির সামনের জায়গা ছাড়ার নিয়ম

বাড়ির সামনের জায়গা ছাড়ার নিয়ম ভবনের উচ্চতা ও সামনের রাস্তার প্রস্থের ওপর নির্ভর করে। 

ভবনের উচ্চতা = ২x (রাস্তার প্রস্থ +রাস্তার কিনারা থেকে বাড়ি পর্যন্ত দূরত্ব)

পৌরসভা এলাকায় বাড়ি বানানোর নিয়ম

পৌরসভা এলাকায় বাড়ি তৈরির নিয়মের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

ভবনের উচ্চতা সামনের রাস্তার প্রস্থ এবং রাস্তা বা জমির কিনারা থেকে ভবন পর্যন্ত ফাঁকা জায়গার দূরত্বের যোগফলের ২ গুণের বেশি হবে না।

জমির মাপ অনুযায়ী ৩ পাশে জমি ছাড়তে হবে।

ভবন বা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গা রাখার নিয়ম জানতে আমাদের বাড়ির ডিজাইন নকশা পেজটি দেখুন।

পৌরসভার শ্রেণি অনুযায়ী কিছু পৌরসভায় শুধু আর্কিটেকচার অংশ দিলেই হয়। 

আবার কিছু পৌরসভায় আর্কিটেকচার ও স্ট্রাকচার — দুই অংশই দিতে হয়।


বাড়ির প্ল্যান পাশ, পৌরসভার মধ্যে বাড়ি বানানোর নিয়ম, পৌরসভা প্ল্যান
পৌরসভা এলাকায় বাড়ি তৈরির নিয়ম

রাজউকের আওতায় বাড়ি বানানোর নিয়ম কী?

রাজউকের আওতায় বাড়ি করার নিয়ম জানার আগে কিছু বিষয় জানা অতি জরুরি।

যেমন: সেটব্যাক রুল (Setback Rule), Maximum Ground Coverage (MGC), Floor Area Ratio (FAR)


৪ তলা বাড়ির ডিজাইন নকশা হিমাঙ্গন গোপালগঞ্জ 4th floor House Design
রাজউকের বাড়ি বানানোর নিয়ম

বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম

বাড়ি করার সময় জমির পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে জায়গা ছাড়তে হয়; ভবনের উচ্চতা বেশি হলে আরও বেশি জায়গা ছাড়তে হয়। ৪ থেকে ৫ কাঠা জমি হলে ন্যূনতম সামনে ১.৫ মি., দুই পাশে ১.২৫ মি. এবং পেছনে ২ মি. জমি ছাড়তে হয়। চারপাশে জমি ছেড়েই বাড়ি তৈরি করা নিয়ম। 

সেটব্যাক রুল (Setback Rule) কী?

ভবনের চারপাশে ন্যূনতম যে জায়গা ছেড়ে নির্মাণ করতে হয়, তাকে সেটব্যাক রুল (Setback Rule) বলে। চারপাশে জমি ছেড়ে বাড়ি করাই নিয়ম।

সেটব্যাক রুল নির্ভর করে জমির পরিমাণ ও রাস্তার ওপর। বাড়ি বানানোর নিয়মের মধ্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, অথচ অধিকাংশ জমির মালিক তা মানতে চান না। 


সেটব্যাক রুল (Setback Rule) বাড়ি তৈরির নিয়ম, বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম
সেটব্যাক রুল (Setback Rule)

ভবনের সামনের দিক কোনটি? Building Orientation

রাস্তা যে পাশে, সেখান থেকে ভবনের যে দিকটি দেখা যায়, সেটিই ভবনের সামনের দিক (Building Orientation)।

২ পাশে রাস্তা থাকলে যে পাশ দিয়ে ঢোকার পথ করা হয়, সেটিই ভবনের সামনের দিক। 

রাস্তার দিকে মুখ করে বাড়ি বানানোর নিয়ম


ভবনের সামনের দিক কোনটি, বাড়ি তৈরির নিয়ম, বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম
ভবনের সামনের দিক কোনটি

সামনের দিকের বিপরীত পাশটি পেছনের দিক। 

আর ডান-বামের ২ দিক হলো পাশ ই। 

Maximum Ground Coverage (MGC) কী?

জমির সর্বোচ্চ কতটুকু জায়গা ভবন দিয়ে ঢাকা যাবে, সেটিই Maximum Ground Coverage (MGC)। 

এরও একটি নিয়ম আছে। 

জমি ছেড়ে বাড়ি করাই নিয়ম

Maximum Ground Coverage (MGC) কী কী বিষয়ের ওপর নির্ভর করে?

Maximum Ground Coverage (MGC) কী কী বিষয়ের ওপর নির্ভর করে জমির পরিমাণ, ভবনের ধরন ও রাস্তার প্রস্থের ওপর।। 

৩ কাঠার একটি জমিতে ভবনের ছাদ জমির ৬৫%-এর বেশি করা যাবে না। 

বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য এটি খুবই উপযোগী। 

বারান্দা বাড়ানোর নিয়ম 

বারান্দা বাড়ানোর নিয়ম: প্রতিটি ফ্লোরের ক্ষেত্রফলের ২.৫%-এর বেশি বাড়ানো যাবে না। 

আরেকটি নিয়ম: ভবনের সামনের প্রস্থের ৩০% পর্যন্ত লম্বা করা যাবে, আর গভীরতা হিসেবে ১ মি. ধরে গুণ করতে হবে। 

তবে এই বারান্দা কোনোভাবেই সেটব্যাকের জায়গায় যাবে না। 

রাজউকের আওতায় ভবন করতে FAR কী?

বাড়ি তৈরির নিয়মের মধ্যে FAR অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। FAR (floor area ratio) হলো জমির ক্ষেত্রফলের তুলনায় সব ফ্লোরের মোট ক্ষেত্রফলের অনুপাত। তবে কিছু জায়গা FAR-এর হিসাবে আসে না। FAR =(সকল মেঝের ক্ষেত্রফল)/জমির ক্ষেত্রফল 

FAR (floor area ratio)-এর সুবিধা:

১) পাশের ভবনে আগুন লাগলে নিরাপদ থাকা যায় 

২) বৃষ্টির পানি মাটির গভীরে যেতে পারে 

৩) পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আসে। 

FAR (floor area ratio)-এর উদ্দেশ্য:

১) কতটুকু জমিতে নির্মাণ করা যাবে, তা নির্ধারণ করা 

২) নির্দিষ্ট এলাকার জমিকে নির্দিষ্ট জোনিংয়ে সীমাবদ্ধ রাখা 

৩) ভূমির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা 

মোটকথা, জমিকে আনুভূমিকভাবে না ছড়িয়ে উল্লম্বভাবে ব্যবহার করা।

 


সেটব্যাক রুল (Setback Rule) FAR (Floor Area Ratio), বাড়ি করার সময় জায়গা ছাড়ার নিয়ম
সেটব্যাক রুল (Setback Rule), FAR (Floor Area Ratio) ও বাড়ি তৈরির নিয়ম

সর্বোচ্চ কত তলা ভবন করা যাবে?

বাড়ি বানানোর নিয়মের মধ্যে ভবনের উচ্চতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোচ্চ কত তলা ভবন করা যাবে, তা নির্ভর করে FAR-এর ওপর।

FAR = সব ছাদের মোট ক্ষেত্রফল / জমির ক্ষেত্রফল

রাজউকের আওতায় ৩ থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম কী?

বাড়ি তৈরির নিয়ম: রাজউকের ৩ কাঠা থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম — জমি ৩ কাঠার বেশি ও ৪ কাঠার কম হলে সেটব্যাক হবে সামনে ১.৫ মি., পেছনে ১.৫ মি. এবং ২ পাশে ১ মি.। 

সামনের সেটব্যাকের ২টি নিয়ম আছে: একটি চার্টে দেওয়া মান, অন্যটি ৪.৫ মি.; এর মধ্যে যেটি বড়, সেটিই নিতে হবে। সেটব্যাকের জমিগুলো ছেড়ে দিতে হবে। 

জমির মাপ যদি ১২ মি. × ১৮ মি. হয়, তাহলে জমির ক্ষেত্রফল হবে ২১৬ বর্গমিটার। 

FAR হবে ৩.৫

MGC হবে ৬২.৫%

সামনে সেটব্যাক ১.৫ মি., পেছনে ১.৫ মি., ২ পাশে ১ মি.। 

তাহলে ছাদ হবে ১৫০ বর্গমিটার।

এখন ১৫০ বর্গমিটার ছাদ করলে MGC হয় (১৫০x ১০০)/২১৬=৬৯.৪৪%

যা অনুমোদিত সীমার বেশি, তাই 

ছাদ করতে হবে ২১৬x ৬২.৫%=১৩৫ বর্গমিটার। 

সামনের দিকে আরও ১.৫ মি. ছেড়ে দিলেই হবে, আর সেখানে বারান্দা করা যাবে। বাড়ি তৈরির নিয়ম মেনেই বাড়ি করা উচিত। 

 


রাজউকের আওতায় ৩ থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম, বাড়ি তৈরির নিয়ম
রাজউকের আওতায় ৩ থেকে ৪ কাঠা জমিতে বাড়ি করার নিয়ম

FAR ৩.৫ = মোট ছাদের ক্ষেত্রফল / ২১৬

মোট ছাদের ক্ষেত্রফল=৭৫৬ বর্গমিটার

তলা = ৭৫৬/১৩৫= ৫.৬

৬ তলা করা যাবে। 

ভবনের উচ্চতা: ৬ তলা 

জায়গা ছেড়ে বাড়ি বা ভবন করলে সুবিধা কী?

জায়গা ছেড়ে ভবন করলে ভবনমালিকেরই সুবিধা বেশি, আর জমি না ছেড়ে করলে অসুবিধাই বেশি। যেমন: 

নিয়ম মেনে ৬৭.৫% জমি ব্যবহার করলে বাকি জায়গা আলো-বাতাস আসার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পুরোটা ঢেকে দিলে আলো-বাতাস কিছুই আসবে না; ফলে আপনার স্বাস্থ্য ঠিক থাকবে না, ঘরের আসবাবপত্রও নষ্ট হবে — এমনকি বাইরে থেকে এসে ঘামে ভেজা কাপড়ও শুকাবে না। 

অধিকাংশ ভবন যেহেতু নিয়ম মেনে করা হচ্ছে না, তাই জায়গা ছেড়ে করলে পাশের ভবন সামান্য হেলে পড়লেও আপনার ভবনের সঙ্গে লেগে যাবে না। 

এ ছাড়া অগ্নিনির্বাপণের কাজেও ফাঁকা জায়গা কাজে লাগে। কোডে ন্যূনতম ফাঁকা জায়গা রাখার কথা বলা আছে, তাই তা অবশ্যই মানতে হবে। 

তা ছাড়া জমি ছেড়ে ভবন করলে বৃষ্টির পানি মাটির মাধ্যমে গভীর স্তরে যেতে পারে। ঢাকা শহরের যে অবস্থা, একটু বেশি বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

সবাই যদি চারপাশে জায়গা খালি না রেখে বাড়ি বানান, তাহলে ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাবে — বলা যায়, ঢাকা শহর একটি ফাঁপা জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে।

নিয়ম মেনে বাড়ি নির্মাণ করলে যেকোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পেতেও সুবিধা হয়। 

বাড়ি তৈরির আগে কী করে নিতে হয়?

বাড়ি তৈরির প্রথম ধাপ হলো জায়গা পরিষ্কার ও সমতল করা। ভবনের ওজন অনেক বেশি হয় তাই মজবুত ফাউন্ডেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মাটি কাটার আগে লে-আউট ভালো করে যাচাই করে নিন। মালামাল রাখার ব্যবস্থা করুন। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে প্রজেক্টে শেড দিয়ে রাখুন। রডের দৈর্ঘ্য ও কংক্রিটের পরিমাণ যাচাই করুন, জয়েন্টগুলো ভালো করে পরীক্ষা করুন।

বিল্ডিংয়ের খরচ কীভাবে বের করতে হয়?

ধরা যাক, আপনি ১৫০০ বর্গফুটের একটি বাড়ি করবেন এবং প্রতি বর্গফুটে নির্মাণ খরচ ২০০০ টাকা।  তাহলে আপনার ভবন করতে খরচ হবে ১৫০০ X ২০০০= ৩০০  ০০ ০০ টাকা। অপ্রত্যাশিত খরচ হতে পারে ১২ থেকে ১৫%, তাহলে আপনার নির্মাণ খরচ হতে পারে মোট  ৩৩ ৬০ ০০০ টাকা থেকে ৩৪ ৫০ ০০০ টাকা। (প্রতি ফ্লোর, ফাউন্ডেশনের খরচ বাদে)।

বাড়ি করতে কত ইট লাগে?

গাঁথুনিতে ১০ ইঞ্চি দেয়ালে প্রতি বর্গফুটে ১০টি এবং ৫ ইঞ্চি দেয়ালে প্রতি ১ বর্গফুটে ৫টি ইট লাগে। গাঁথুনির মর্টারের অনুপাত হবে ১ ব্যাগ সিমেন্টে ৪ ব্যাগ বালি; তবে বালু যেন মোটা হয়।

বাড়ির পরিকল্পনা কীভাবে করতে হয়?

প্রতিটি রুমের উদ্দেশ্য বিবেচনা করুন: রুমে কী কী থাকবে, রুমটি কীভাবে ব্যবহার করবেন। প্রতিটি আসবাবের মাপ মনে রাখুন এবং কোথায় কোন আসবাব বসবে, তা হিসাব করুন; তারপর রুমের মাপ ঠিক করুন — তখনই পরিকল্পনা সফল হবে। পাবলিক স্পেস ও প্রাইভেট স্পেস কতটুকু হবে এবং আলো-বাতাস কীভাবে প্রবাহিত হবে, তাও হিসাব করুন।

অনুমতি ছাড়া কত তলা নির্মাণ করা যায়?

অনুমতি ছাড়া একতলাও করতে পারবেন না; বাউন্ডারি ওয়াল করতেও অনুমতি প্রয়োজন। 

এমনকি পুকুর খনন করতেও অনুমতি লাগে। আইন অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া নির্মিত ভবন সরকার ভেঙে দিতে পারে।

বাংলাদেশে বাড়ি বানাতে কত টাকা লাগে?

২০২৪ সাল অনুযায়ী প্রতি বর্গফুটে ফাউন্ডেশন খরচ: ১ তলার জন্য ৭০০ টাকা, দুই তলার জন্য ৭৫০ টাকা, তিন তলার জন্য ৮৫০ টাকা, চার তলার জন্য এক হাজার টাকা, 5 তলার জন্য বারোশো টাকা এবং ৬ তলার জন্য ১৪০০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি বর্গফুটে ভবন নির্মাণে দুই হাজার থেকে ২৫০০ টাকার মতো লাগে।

বাড়ির ডিজাইনের জন্য যোগাযোগ করুন।  আমাদের বাড়ির নকশার ভিডিও দেখুন।

মসজিদের ডিজাইন দেখুন

https://youtu.be/LokYh2oP860https://youtu.be/IbpSnZBR8x8https://youtu.be/L19yi8T-09Ehttps://youtu.be/Dq9zggw8vDk

যোগাযোগ

আপনার জমির জন্য সঠিক ডিজাইন নিয়ে কথা বলুন

জমির মাপ ও প্রয়োজন জানালে আমরা উপযুক্ত প্ল্যান ও খরচের ধারণা দিতে পারব।

ফোন করুনহোয়াটসঅ্যাপ