২ তলা বাড়ির ডিজাইন

বিদেশি বাড়ির ডিজাইন নিজের গ্রামে করতে চান?

বিদেশি বাড়ির ডিজাইন নিচ তলা

বিদেশি বাড়ির ডিজাইন টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

বিদেশি বাড়ির ডিজাইন টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ক্লায়েন্ট বিদেশে থাকেন। মধ্যপ্রাচ্যে তার একটি বাড়ি পছন্দ হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাতে কিছুটা পরিবর্তন করে দিয়েছি।

আপনার যদি বিদেশি বাড়ি পছন্দ হয়, তবে আপনি আপনার পছন্দমতো আমাদের দ্বারা তা পরিবর্তন করে নিতে পারবেন।

বিদেশি বাড়ির ডিজাইন টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ। বিদেশিদের মতো করে বাড়ির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জানালা ও দরজাও সেই আদলে তৈরি। বারান্দাগুলোতে অনেক মোল্ডিং করা হয়েছে।

ছাদের উপর টালি বসানো হয়েছে। ছাদে আড্ডা দেওয়ার জন্য টালি ঘর করা হয়েছে।

বিদেশি বাড়ির ডিজাইন নিচ তলা
বিদেশি বাড়ির ডিজাইন নিচ তলা

 

বাড়ির প্ল্যান, বিদেশি বাড়ির ডিজাইন টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ

বাড়ির ডিজাইনের জন্য যোগাযোগ করুন। আমাদের বাড়ির নকশার ভিডিও দেখুন।

বিদেশি বাড়ির ডিজাইন: বিলাসবহুল ও আধুনিক ডুপ্লেক্স বাড়ির স্থাপত্য নকশা এবং ২০২৩-২০২৬ এর ট্রেন্ড

একটি সুন্দর, রুচিশীল এবং দৃষ্টিনন্দন বাড়ি তৈরি করা আমাদের সবারই একটি আজন্ম স্বপ্ন। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের মানুষের রুচি ও জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। অনেকেই এখন প্রথাগত ডিজাইনের বাইরে গিয়ে ইউরোপীয় বা পশ্চিমা ধাঁচের বিদেশি বাড়ির ডিজাইন পছন্দ করছেন। এই স্থাপত্য নকশাগুলো যেমন রাজকীয় দেখতে হয়, তেমনি এর ভেতরের স্পেস বা জায়গার ব্যবহার হয় অত্যন্ত আধুনিক ও কার্যকরী।

আজকের আর্টিকেলে আমরা একটি চমৎকার এবং বিলাসবহুল বিদেশি ধাঁচের ডুপ্লেক্স বাড়ির ফ্রন্ট 3D 3D ভিউ এবং এর প্রথম তলার (বা গ্রাউন্ড ফ্লোর) স্থাপত্য নকশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই নকশাটি তৈরি করেছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম “NB Consultant”-এর প্রধান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ইঞ্জি. মো. নুরুজ্জামান।

আপনি যদি নিজের জন্য একটি রাজকীয় প্রাসাদসম বাড়ি তৈরি করতে চান, তবে ২৪৬৭ স্কয়ার ফুট এর এই আধুনিক প্ল্যানটি আপনার জন্য সেরা অনুপ্রেরণা হতে পারে।

১. বাহ্যিক রূপ বা এক্সটেরিয়র ডিজাইন (সামনের 3D ভিউ বিশ্লেষণ)

প্রথম ছবিটিতে আমরা বাড়িটির যে এক্সটেরিয়র বা ল্যান্ডস্কেপিং ভিউ দেখতে পাচ্ছি, তা এক কথায় অসাধারণ। এটি মূলত একটি ক্লাসিক্যাল এবং নব্য-ক্লাসিক্যাল ইউরোপীয় রাজপ্রাসাদের আদলে তৈরি বিদেশি বাড়ির ডিজাইন।

মূল আকর্ষণসমূহ:

  • গ্র্যান্ড এন্ট্রি ও কলাম: বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে বিশাল আকৃতির দুটি করিন্থিয়ান বা আয়োনিক ধাঁচের কলাম ব্যবহার করা হয়েছে। কলামগুলোর উপরের অংশের কারুকার্য বাড়িটিকে অত্যন্ত রাজকীয় ও অভিজাত লুক দিচ্ছে।

  • পোর্টিকো এবং বারান্দা: প্রবেশদ্বারের ঠিক উপরেই ফার্স্ট ফ্লোরে একটি চমৎকার বারান্দা রয়েছে, যা ডাবল-হাইট কলামের উপর দাঁড়িয়ে আছে। এর রেলিং এবং আর্চ ডিজাইনটি ক্লাসিক্যাল রোমান স্থাপত্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।

  • আর্চ আকৃতির জানালা: বাড়িটির প্রতিটি জানালা সাধারণ চারকোনা না করে অলঙ্কৃত আর্চ বা খিলান আকৃতির করা হয়েছে। জানালার চারপাশের বর্ডার ডিজাইন এবং কাচের ব্যবহার প্রচ্ছন্নভাবে ইউরোপীয় বিলাসবহুল ভিলার প্রতীক।

  • কালার স্কিম ও ছাদ ডিজাইন: পুরো বাড়ির দেয়ালে হালকা ক্রিম বা অফ-হোয়াইট কালার ব্যবহার করা হয়েছে, যা রোদের আলোয় ঝলমল করে। ছাদের দুই পাশে ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের টেরাকোটা বা স্লেট টাইপ চাল ব্যবহার করা হয়েছে, যা বিদেশি বাড়ির একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য।

  • ল্যান্ডস্কেপিং এবং সীমানা প্রাচীর: বাড়ির সামনে চমৎকার সবুজ বাগান, সুন্দর লাইটিং পোস্ট এবং আর্চ আকৃতির সাদা রঙের সীমানা গেট পুরো প্রজেক্টটির সৌন্দর্য বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

২. ফার্স্ট ফ্লোর স্থাপত্য নকশা রিভিউ

দ্বিতীয় ছবিটি লক্ষ্য করলে আমরা বাড়িটির ভেতরের লেআউট বা স্থাপত্য নকশা দেখতে পাই। এই ফ্লোরটির মোট আয়তন ২৪৬৭ স্কয়ার ফুট (2467 স্কয়ার ফুট)। এটি একটি ফার্স্ট ফ্লোরের নকশা হলেও এর গ্রাউন্ড ফ্লোর প্ল্যানটিও প্রায় একই রকম, যা একটি ডুপ্লেক্স বা ট্রিপ্লেক্স বাড়ির জন্য আদর্শ।

চলুন, এই নকশাটির ভেতরের কক্ষ বিন্যাস দেখে নেওয়া যাক:

ক) বিশাল লিভিং স্পেস ও কেন্দ্রীয় ‘ভয়েড’

নকশার ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি বিশাল ড্রইং বা লিভিং জোন। এর কেন্দ্রবিন্দুতে একটি ‘ভয়েড’ (ফাঁকা জায়গা) বা ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে, যা ডুপ্লেক্স বাড়ির নিচতলা ও উপরতলার মাঝে সরাসরি ভিজ্যুয়াল কানেকশন তৈরি করে। এই ভয়েডের চারপাশ জুড়ে সোফা সেট দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপর থেকে যখন নিচের এই লিভিং এরিয়া দেখা যাবে, তখন এটি দেখতে চমৎকার লাক্সারিয়াস লাগবে।

খ) বেডরুম বিন্যাস

এই ২৪৬৭ স্কয়ার ফুট এর ফ্লোর প্ল্যানে মোট ৪টি বড় সাইজের বেডরুম রাখা হয়েছে:

১. সামনের ডানদিকের বেডরুম (15 ফুট-3 ইঞ্চি x 14 ফুট-0 ইঞ্চি): এটি একটি মাস্টার বেডরুম, যার সাথে রয়েছে চমৎকার উইন্ডো সিটিং এরিয়া।

২. সামনের বামদিকের বেডরুম (15 ফুট-3 ইঞ্চি x 14 ফুট-0 ইঞ্চি): এটিও সমান আকৃতির এবং এর সামনের দেয়ালটি কর্নার শেপের হওয়ায় এখান থেকে বাইরের ভিউ দারুণ দেখাবে।

৩. পেছনের ডানদিকের বেডরুম (15 ফুট-7 ইঞ্চি x 12 ফুট-8 ইঞ্চি): বেশ বড় আকারের রুম, যেখানে বেড ছাড়াও ইজি চেয়ার বা ওয়ারড্রোব রাখার পর্যাপ্ত জায়গা আছে।

৪. পেছনের বামদিকের বেডরুম (15 ফুট-7 ইঞ্চি x 12 ফুট-8 ইঞ্চি): এটিও পেছনের অন্য রুমটির সমপর্যায়ের স্পেশাল রুম।

গ) বাথরুম বা টয়লেট

এই ফ্লোরে মোট ৩টি টয়লেট রয়েছে:

  • ডানদিকের পেছনের বেডরুমের সাথে একটি এটাচ টয়লেট ($5′-6″ \times 9′-0″$) রয়েছে।

  • বামদিকের পেছনের বেডরুমের পাশে একটি কমন বা এটাচ টয়লেট ($4′-11″ \times 6′-7″$) রয়েছে।

  • এছাড়াও ডানদিকের সিঁড়ির পাশে আরেকটি বাথরুমের ব্যবস্থা রয়েছে।

ঘ) ডাইনিং ও স্পাইরাল সিঁড়ি

  • ডাইনিং স্পেস: ফ্লোরের বাম পাশে ডাইনিং টেবিল সেট করার জন্য একটি ডেডিকেটেড জোন রাখা হয়েছে, যেখানে একসাথে ৮-১০ জন বসে খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন।

  • স্পাইরাল সিঁড়ি: ফ্লোরের ডান পাশে একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং আধুনিক বৃত্তাকার বা স্পাইরাল সিঁড়ি দেওয়া হয়েছে। বিদেশি বাড়ির ডিজাইন-এ এই ধরনের প্যাঁচানো সিঁড়ি ড্রপ-ডেড গর্জিয়াস লুক নিয়ে আসে।

ঙ) বারান্দা

প্রকৃতি ও বাইরের মুক্ত বাতাস উপভোগ করার জন্য এই প্ল্যানে পর্যাপ্ত বারান্দা রাখা হয়েছে:

  • পেছনের মূল বারান্দা: $25′-4″ \times 8′-0″$, যা বিশাল আকৃতির এবং এখানে চমৎকার ইনডোর প্ল্যান্ট বা কফি টেবিল রাখা সম্ভব।

  • সামনের বারান্দা: $18′-0″ \times 8′-3″$, যা মূলত বাড়ির সামনের পোর্টিকোর উপরের অংশ।

  • এছাড়াও দুই পাশের বেডরুমগুলোর সাথে ছোট ছোট কর্নার বারান্দা রয়েছে।

৩. কেন এই বিদেশি বাড়ির ডিজাইনটি অনন্য?

আপনি যদি বাংলাদেশে থেকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বাড়ি বানাতে চান, তবে এই প্ল্যানটি অনুসরণ করার বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুবিধা রয়েছে:

  • আলো-বাতাসের সুব্যবস্থা: বাড়িটির চারপাশেই প্রচুর জানালা এবং একাধিক বারান্দা থাকায় প্রতিটি রুমে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারবে। ফলে দিনের বেলা কৃত্রিম লাইটের প্রয়োজন হবে না।

  • প্রাইভেসি এবং স্পেস ম্যানেজমেন্ট: ডাইনিং, লিভিং এবং বেডরুমগুলোর পজিশন এমনভাবে বিন্যাস করা হয়েছে যেন একটি পরিবার পূর্ণ প্রাইভেসি পায়। অতিথি এলে তারা সেন্ট্রাল লিভিং রুমে বসতে পারবেন, যা বেডরুমগুলো থেকে কিছুটা আড়ালে।

  • অভিজাত লাইফস্টাইল: রাজকীয় কলাম, স্পাইরাল সিঁড়ি এবং ডাবল হাইট ওপেন সিলিং (ভয়েড) আপনার সাধারণ জীবনযাত্রাকে এক ধাক্কায় অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবে।

৪. বিদেশি বাড়ির ডিজাইন করার সময় যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

বাংলাদেশে এই ধরনের লাক্সারি হাউস বা বিদেশি বাড়ির ডিজাইন বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি নজর দেওয়া জরুরি:

+-----------------------------------------------------------------------+
|                 বিদেশি বাড়ি নির্মাণের চেকলিস্ট                       |
+-----------------------------------------------------------------------+
| ১. দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার নির্বাচন: স্ট্রাকচারাল সেফটির জন্য অনুমোদিত ইঞ্জিনিয়ার  |
| ২. প্রিমিয়াম ম্যাটেরিয়ালস: ভালো মানের গ্লাস, কলাম ক্যাপিটাল ও ফিটিংস     |
| ৩. সয়েল টেস্ট ও ফাউন্ডেশন: ২৪৬৭ স্কয়ার ফুট এর বড় লোড নেওয়ার সঠিক সয়েল টেস্ট|
| ৪. বাজেট প্ল্যানিং: সাধারণ বাড়ির চেয়ে ফিনিশিং ও ইন্টেরিয়র খরচ বেশি হবে  |
+-----------------------------------------------------------------------+

১. দক্ষ ও রাজউক অনুমোদিত ইঞ্জিনিয়ার: এই ধরনের জটিল এবং চমৎকার স্থাপত্য নকশা সাধারণ কোনো মেস্তরি দিয়ে করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। যেমনটা এই প্রজেক্টের ক্ষেত্রে ইঞ্জি. মো. নুরুজ্জামান করেছেন। সঠিক ড্রইং ও কলাম লোড ক্যালকুলেশন ছাড়া এত বড় ভবন করা ঝুঁকিপূর্ণ।

২. বাজেট ও ম্যাটেরিয়াল সিলেকশন: ক্লাসিক্যাল লুক আনার জন্য এক্সটেরিয়র প্লাস্টার, কলামের কারুকার্য, আর্চ উইন্ডো এবং রুফ টাইলাসের পেছনে ভালো বাজেট রাখতে হবে। এখানে সাধারণ থাই অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে সাউন্ডপ্রুফ ও ইউপিভিসি বা প্রিমিয়াম গ্লাস ব্যবহার করলে বিদেশি লুকটি নিখুঁতভাবে ফুটে ওঠে।

৩. ইন্টেরিয়র ডিজাইন: ভেতরের ‘ভয়েড’ অংশটিতে একটি ঝাড়বাতি ঝুলিয়ে দিলে এবং সিঁড়ির রেলিংয়ে মেটালিক বা উডেন ফিনিশ দিলে ভেতরের দৃশ্য বাইরের মতোই চোখ ধাঁধানো হবে।

উপসংহার

আমাদের দেশে এখন অনেকেই শুধু থাকার জন্য নয়, বরং নিজের রুচি ও আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে ভবন তৈরি করেন। NB Consultant-এর তৈরি এই বিদেশি বাড়ির ডিজাইন এবং ২৪৬৭ স্কয়ার ফুট এর এই ফ্লোর প্ল্যানটি আধুনিকতা ও রাজকীয় আভিজাত্যের এক অপূর্ব মিশ্রণ। আপনি যদি এই ডিজাইনটি অনুযায়ী আপনার স্বপ্নের ডুপ্লেক্স বা ট্রিপ্লেক্স ভবনটি নির্মাণ করতে চান, তবে স্ক্রিনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরাসরি সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার বা ফার্মের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

একটি সঠিক সিদ্ধান্ত এবং পেশাদার স্থাপত্য নকশা ই পারে আপনার কষ্টার্জিত টাকায় তৈরি ভবনটিকে একটি জীবন্ত প্রাসাদে রূপান্তর করতে।

যোগাযোগ

আপনার জমির জন্য সঠিক ডিজাইন নিয়ে কথা বলুন

জমির মাপ ও প্রয়োজন জানালে আমরা উপযুক্ত প্ল্যান ও খরচের ধারণা দিতে পারব।

ফোন করুনহোয়াটসঅ্যাপ